একাল সেকাল

তুমি বলেছিলে –

কোনো এক বাঁকা নদীর পাড় ধরে হাঁটবে আমায় নিয়ে,

তোমার একহাতে থাকবে শুভ্র কাশফুল

আর অন্য হাতটা কখনও কখনও আমার আঙুল ছুঁয়ে যাবে ।

তুমি বলেছিলে-

একদিন বিকেলে, যখন আকাশটা ঝকঝকে আয়নার মতো পরিষ্কার,

পেঁজা তুলার মতো মেঘগুলো প্রতিফলিত হবে টলটলে নদীর জলে,

তখন ডিঙি নৌকায় চেপে ভেসে যাবো দুজনে দূরে বহুদূরে।

নদীটা আজ মৃতপ্রায় , নৌকা ভাসানো দায়

বাঁকে বাঁকে বেখদল হয়ে তার বুকে দাঁড়িয়ে গেছে দানবের মতো দালান।

তুমি কি এখনও স্বপ্ন দেখো? একসাথে হাঁটার? একসাথে ভাসার??

বলেছিলে-

সামনের আষাঢ়ে ঝুম বৃষ্টিতে যখন ভিজে সকাল থেকে সন্ধ্যা,

মনের কোণে উঁকি দেবে একগুচ্ছ কদম ছুঁয়ে দেখার দুর্দম লোভ,

তখন জল-কাদায় মিশে ফিরে যাবো দুজনে দুরন্ত শৈশবে।

আজও বর্ষা আসে এই ইট পাথরের শহরে,

শুধু হলুদ সাদার কদম আর বিশুদ্ধ কাদা-জলেরই যা একটু অভাব।

বৃষ্টি এলেই এখনও কি তোমার ভিজতে ইচ্ছে করে ??

কথা ছিলো –

ঝিঁঝিঁপোকার আর্তচিৎকারে সন্ধ্যেরা যখন ভেঙে খান খান হবে ,

মোড়ের টঙে আঁধারের সাথে পাল্লা দিয়ে তীব্র হবে চুল্লির আগুন,

তখন খোলা আকাশের নিচের সেই টঙে বসে লিকার চা’য়ে বুদ হবো দুজনে ।

এখনও দিনের শেষে সন্ধ্যা নামাই রীতি,

ঝিঁঝিঁগুলোর গলা বসে গেছে সেই কবে,

দোকানটাও উঠে গেছে সিটি কর্পোরেশনের জ্বালায়।

0.00 avg. rating (0% score) - 0 votes