আজব মন্ত্রী মশাই
-জিহাদ আমিন
মন্ত্রী মশাই দেশও জনগনের সার্থে
করিলেন তিনি এক শপথ,
দেশ রক্ষার্থে যে করেই হোক আসুক যতই বিপদ
টিকিয়ে রাখিবেই সে নিজ ক্ষমতার আসন,
সত্য মিথ্যার ভেদাভেদ ভুলে জনতার মঞ্চে
দিয়ে বেড়ান তিনি বড় বড় ভাষণ।
জনগন বলিতে লাগিল
ছেড়ে দাও তরী মন্ত্রী উঠাও এবার পাল,
মন্ত্রী মশাই বলিয়া উঠিল
আমি ছাড়া কে ধরিবে এ দেশের হাল,
আমি না করিলে কে করিবে
সকল বিপদ থেকে আর উদ্ধার এই দেশ?
তখন সকলে বলিল
বাহবা মন্ত্রী বাহবা বাহবা বেশ,
মন্ত্রী মশাই আছেন ভয়ে
তাহার যদি কিছু হয়ে যায়
কিন্তু শেষে এই দেশের বলো হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার
আমরাইতো এই দেশের সরকার
আমার কিছু হয়ে যায় যদি
কি হবে পরে এই দেশের সাধারন জনতার।
মন্ত্রী মশাইয়ের ছেলে বিদেশে থাকে
একেলা একা তার জীবন বাঁচে!
সকলে জানে পড়ালেখা করে সে
হবে একজন বড় ইঞ্জিনিয়ার অথবা ডাক্তার,
অবশেষে একদিন সন্ধান মিলে বানায় সেথায়
বাড়ি গাড়ি আরো আছে অবৈধ কারবার
আসলে সেও একজন মস্ত বড় বাটপার।
মন্ত্রী মশাই একদিন হঠাৎ করে
কত গুলো কাগজ পত্র করিল বাহির,
সাক্ষর করিয়া দিলো সব
নিজের দলীয় নেতা কর্মীর নামে বেনামে
কাজ না করিয়া টাকা নেওয়ার
যত আছে টেন্ডারের সব হাতে বানানো ফাইল।
সাক্ষ্য প্রমান সহও যখন ধরা পরে
অসৎ কাজে দলীয় নেতাকর্মী,
সাংবাদিক এসে জিজ্ঞাস করিলে বলেন তিনি
যার কাজ সে করেছে আমি তার দায় নিব কি!
তদন্ত করিয়া অবশ্যই সাজা দিব
এর চাইতে আর বেশি চাও কি?
মন্ত্রী মশাই খাটতে খাটতে প্রায় শেষ
কাজ যত করে তার বেশি বলে মিথ্যা কথা,
চুরি করে তার চেয়েও আরো বেশি
সত্য কথা বলতে গেলে বুকে শুরু হয় ব্যথা,
চুরি করতে গেলে তখন
ব্যাংক,শেয়ার বাজার,গরীবের টাকা সহ
আর কিছুই রাখেনা বাকী,
তখন নিজ দলের লোকেরা বলিল
বাহবা বাহবা বাহবা বেশ মন্ত্রী।
মন্ত্রী মশাই একদা সংবাদ সম্মেলনে
দুর্নীতির দায়ে এক নেতাকে দেয় গালি,
নেতা আসিয়া গলাটি তাহার
একটু জোরে টিপিয়া ধরিল খালি,
মন্ত্রী বলিল আ-হা-হা!
কর কি, কর কি! ছাড় না এবার ভাই
কি হবে এই দেশও জনতার
গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই?
বলো আমায় কি করিতে হবে
যা বলো তুমি আমি করিব তাহা…
তখন নেতা উঠিয়া বলিল
বাহবা মন্ত্রী মশাই বাহবা বাহবা বাহা!
মন্ত্রী মশাই বাড়ির হত না বেশি বাহির
কোথায় কি ঘটে কি জানি,
ক্ষুধার জ্বালায় অভাবের তাড়নায় গরিবেরা কখন
কি জানি উল্টাইয়া দেয় নাকি তাহার গাড়িখানি,
এই ভাবেই কাটিয়ে দিতে চায় মন্ত্রী মশাই
শুয়ে বসে আরাম আয়েশে বাকী জীবন,
মাঝে মাঝে দু’একটা কড়া ভাষণ দিয়ে
টিকিয়ে রাখেন তিনি নিজ ক্ষমতার আসন।।