সহজ সরল ছেলে সাইম সবে মাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ে।পড়াশোনা আর খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত। আবার সে একটু ব্যতিক্রম বটে। সব সময় কি যেন চিন্তা করে,কথাই বলেনা। আকাশে দিকে তাকিয়ে থাকে আর সুযোগ পেলেই নিরজনে একা একা বসে থাকে। বন্ধুরা সবাই মিলে সাইম বিরক্ত করে বেশ ভালো। তখন বন্ধুদের বলে এত কথা বলিস কেন? কম কথা বলাই ভালো। বন্ধরা জানে সে কম কথা বলাই পছন্দ করে। এদিকে সাইম মনে মনে স্বপ্ন দেখতে শুরু সাজিয়াকে নিয়ে।সাজিয়া ছোট মেয়ে সে স্বপ্ন কি তাও জানেনা। সাইম আর সাজিয়া ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সাইমের স্বপ্নও বড় হতে লাগলো। সাইম এস এস সি পরীক্ষায় উন্নতি হওয়ার বছর সাজিয়ার বাবা মারা যায়। সমাজ বাস্তবতা কথা চিন্তা করে সাইমের দুচিন্তায় পড়ে যায়। সাজিয়া এখনো কিছু জানেনা সাইম সম্পর্কে। বাড়ি থেকে দুরে সাজিয়া একটা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। সাইম প্রতি দিন তাকে দেখার জন্য সকালে তার পিছু নে। যদি সকালে দেখা নাও হত দুপুরে স্কুল ছুটির সময় এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতো যাতে তাকে দেখা যায়।তাদের লুকোচুরি খেলার মাঝে কেটে যায় অনেক বছর। এর মাঝে সাজিয়া বুঝতে পারে সাইমের তার প্রতি দুর্বলতা আছে। কিন্তু এক জনের সামনে আরেক জন কখনো আসতে পারেনি। এদিকে সাইম মাঝে মাঝে সাজিয়াদের বাসায় যেতো সে কখনো সামনে আসতো না, কিন্তু এক সাথে ঠিক খাবার খেতো। সাজিয়াদের বাসায় গেলে এই বিষয়টা নিয়ে সাইম খুব বেশি অনন্দ পেতো। সাইম গেল সাজিয়ার মা তাকে ইঙ্গ করে বলতো সামনে থেকে চলে যেতে। সাইমকে সাজিয়ার মা খুব বেশি পছন্দ করতো। তাদের মাঝে ভালো কিংবা মন্দ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতো ভালো।এক দিন সাইমকে তার বন্ধু জানায় সাজিয়াকে স্কুলে যেতে কোনো এক ছেলে বিরক্ত করে। সাইম ঐছেলের সাথে কথা বলে সব ঠিক করে। আর সাইম সিদ্ধান্ত নিলো এই বিষয়টা সরাসরি আলোচনা করা দরকার। তখন সাইমের বন্ধুদের সাজিয়ার মায়ের সাথে কথা বলে জন্য পাঠানো হয়। সাজিয়ার মা তাদেরকে বলে আমি জানি সেই তোমাদেরকে কেন পাঠালো। এবং বলে আমি তাকে ছেলে হিসাবে অনেক ভালোবাসি। সে খুব ভদ্র ও নম্র ছেলে ঠিক আছে। কথা হচ্ছে আমার মেয়ে এখনো ছোট এছাড়া পড়াশোনা করছে আর সাইমের পড়াশোনা এখনো শেষ করেনি। সাইম পড়াশোনা শেষ করুক এদিকে সাজিয়া মোটামুটি নিজেকে গড়ে তোলোক। আর সাইম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে আর যা হবে পরে, এখন কোনো কিছু করা যাবেনা। সাইম আর সাজিয়া দু’জনে ভালো পর্যায়ে চলে আসে। আর দু’জনে মনে করে তাদের সরাসরি কথা বলা দরকার। সাইম আজ বা কাল বলতে বলতে বলে মাস শেষ কিন্তু কথা বলে না। হঠাৎ এক দিন সকালে সাজিয়াদের বাসার নাম্বার থেকে কয় এক বার ফোন আসে। সাইম ফোন দরেনা যদি এমন কিছু শুনতে হয়। যা শুনে সুখ গুলো দুঃখ পরিনত হয়ে। একটু পর সাইম ফোন করলো ওপার সাজিয়া বলে উঠলো আপনি ফোন ধরো না কেন। এদিকে সাইম অজ্ঞান হয়ে গেল। কারণ সে ছোট সাজিয়া আজ ফোন করেছে তার জন্য সাইম দীর্ঘ দশ বছর অপেক্ষা তীর্থের কাকের মতো। সাজিয়া ছাড়া সাইমের পৃথিবীতে কোনো মেয়ে ছিলোনা। সাইম সাজিয়াকে ছাড়া কিছু বুঝেনা। সাজিয়ার মাঝে সাইমের জীবন লুকানো আছে আর সাইমের এক মাত্র পৃথিবী সাজিয়া। সে স্বপ্নের রাণী মুখের কথা শুনে সাইন কেন সবাই অজ্ঞান হয়ে যাবে।
লেখক
এম এ সাইফুল ইসলাম।