হেমন্ত

কাব্যগ্রন্থ: কষ্টের নিদারুণ সাক্ষী (অপ্রকাশিত)

 

হেমন্ত

আল আমিন মুহাম্মাদ 🇧🇩

 

***************************************

রোদ-মেঘের লুকোচুরি আশ্বিনেতে শেষ,

হাবড়-কাদার হালুয়া খেলো সূয্যিমামা বেশ!

হালকা হালকা হিম-হিম

দাবদাহে ধরেনা ঝিম

এলো রে হমন্ত !

বদলে গ্যালো বাংলাদেশের প্রকৃতির মন-তো।

 

মাঠের সাথে পাল্লা দিয়ে পুকুর পানি চোষে,

খালের জলে কৈ মারে কে বর্শি নিয়ে বসে,

রাতের আলোয় মধ্যি বিলে

কোঁচ হাতে ঢের মাছ মেলে

এলো রে হেমন্ত !

মাছে- ভাতে বাঙ্গালীর আঁশটের ক্ষণ-তো।

 

ধানী বাংলার মাঠ-খেতে পাকিছে আমনধান

ফি বছেরর শাশ্বত খুশিতে ভরবে চাষির প্রাণ,

এ বাড়ি ও বাড়ি নয়তো দূর

একই সব আনন্দ-সূর

এলো রে হেমন্ত !

বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবের ক্ষণ-তো।

 

কুয়াশা ভোরে রয়েছে ঘিরে সকল কোণে কোণে,

শিশির বিন্দু ঝিলিক মারে ঘাসের প্রাণে প্রাণে,

সকাল হয় রাঁঙ্গা ভোরে

মেঘ-বৃষ্টি গেছেতো সোরে

এলো রে হেমন্ত !

আকাশ-বাতাস,নদী-মাঠ-খেতে রং লাগার ক্ষণ্-তো।

 

মটর, কলই, শষ্য, মুশুরি খেতে খেতে বোঝাই,

মুলো, পালং, কপি, শাঁকে খেতের সীমা নাই!

হাট-বাজার গমগমে

বৃষ্টিতে আর নেই থেমে

এলো রে হেমন্ত!

চলা-ফেরা, খাওয়া-দাওয়াই সুবিধের ক্ষণ্-তো।

 

শরতী গরম কাল হয়ে নরম কার্তিকে ঢুকেছে,

বুড়ো-গুড়ো নাক টানে ক্যান্ ?–”সর্দি এটেছে”,

লেপ-তোষক কোথায় রাখো

টুপি- সোয়েটারে গা ঢাকো

এলো রে হেমন্ত!

ঠান্ডা-গরম মিনে হবে রোগ কঠিন্- তো।

 

নতুন ধানে রসের পিঠার ধুম পড়িছে বাড়ি

মেয়ে- জামাই আসলে হবে আরো কাড়াকাড়ি!

নতুন বিয়ের বাজেরে সানাই

ভরেরে পুলক কানাই কানাই

এলো রে হেমন্ত!

বাঙ্গালীর মনে ঢুকেছে য্যানো আরেক বসন্ত।

 

 

0.00 avg. rating (0% score) - 0 votes