কষ্টের নিদারুণ সাক্ষী
–অাল আমিন মুহাম্মাদ
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমি কষ্টের নিদারুন সাক্ষী।
আমি অনেক কষ্টকে চিনি।
ভাতের কষ্ট , পাতের কষ্ট
মানে মরিচ ঢলে ভাত খাওয়ার কষ্ট,
ঠিকমতো বই খাতা না পাওয়া
পরীক্ষার ফিসের কষ্ট,
আনফিট জামা,ছেড়া লুঙ্গির কষ্ট
আমি অনেক কষ্টকে চিনি।
বালকে কারও বাপ মরে যাওয়ার অকাল কষ্ট,
সেই কষ্টের মধ্যে স্ট্রকে হঠাৎ মা মরার কষ্ট,
জমিজুমা নেই
পাঁচ ভাইবোনের অবুঝ পেট
কামলা দিয়ে সংসার চালানোর কষ্ট
সামান্য একটা কিশোরের পক্ষে।
আমি হতভাগ্য সেই কিশোর,
আমি অনেক কষ্টকে চিনি।
আমার কষ্টের সময় ও ক্যাটাগরি নেই
সে কষ্ট ,টাকা ধার না পাওয়ার কষ্ট,
ঠিকমতো তা না দেওয়ার কষ্ট,
ভালো ইনকাম না করারা কষ্ট, এমনকি
অল্প রোজগারের মহা কষ্ট, এমনকি
কষ্টের জন্যও কষ্টও,
আমি অনেক কষ্টকে চিনে ফেলেছি
খুব সহজেই।
ছোট্ট বোনের ছোট্ট বায়নাও কষ্ট দিতে পারে
আমি তাও জানি,
ঈদের খুশিও আমাকে ছাড়িনি,
কোন প্রিয়তম আমারে ছুড়ার কষ্ট
তাতও একটা কমন ব্যাপারও।
শুনে অবাক হতে পারেন, তাও বলি
বাজারের আলু ,বেগুন , মুলো পর্যন্ত
আমারে ছাড়িনি
সময় সময় কিনতে পারিনি বলে
দুপুরের অক্তোর জন্য,
পাশের বাড়ি থেকে লবণ কর্জ না পাওয়াই
বে-স্বাদের ঝোলও আমাকে কষ্ট দিয়েছে।
বেকারের ছয়টি বৎসরও আমাকে কাঁদিয়েছে,
সহপাঠির ফিট্ফাট চলাও আমাকে ছাড়িনি।
বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন
তবু বলি
আমি অনেক কষ্টকে সত্যিই চিনি
এবং এটাও আমাকে দারুন কষ্ট দ্যায়।
আমি যা-ই করি, ধরি, বলি
সবাই আমাকে কষ্ট দ্যায়
শুধু কষ্ট-ই দ্যায়।
এই জন্যই আমি বলি
যে আমি মানুষও না, দুনিয়াই বাসও করিনা
আমি তো কষ্টের নিদরুণ সাক্ষী-ই!