এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে – মা লক্ষ্মীর আগমনী – সমাপ্তি পর্ব
তথ্যসংগ্রহ, সম্পাদনা, কাব্য রচনা ও পাঠ- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
শাস্ত্রে মাতা লক্ষ্মীকে সর্বঐশ্বর্যদায়িনী, সুখপ্রদা, ধনপ্রদায়িনী নামে উল্লেখিত করা হয়েছে । মাতা লক্ষ্মীর আরাধনার একটি কারণ ধন সম্পদ প্রাপ্তি । যেখান হতে মাতা লক্ষ্মী প্রস্থান করেন, সেখানে দুঃখ, রোগ, শোকের বন্যা বয়ে যায় । মাতা লক্ষ্মী চঞ্চলা, কিন্তু সমস্ত সংসারের গৃহকর্ত্রীরাই গুরুবার ও পূর্ণিমা তিথিতে পূজা করে মাকে ধরে রাখেন- এবং মায়ের কৃপায় সংসারের গৃহকর্ত্রীরাই “গৃহলক্ষ্মী” রূপে সংসারের উন্নতি বৃদ্ধি করেন । মা লক্ষ্মী ঐশ্বর্য, সম্পদের পূর্ণ বিকাশ ঘটান, এই জন্য দেবী প্রস্ফুটিত কমলে প্রস্ফুটিত পদ্ম ধারণ করে থাকেন । প্রস্ফুটিত পদ্ম পূর্ণ বিকাশের প্রতীক।
লক্ষ্মীপূজা করলে হৃদয়ে ও গৃহে চঞ্চলা লক্ষ্মী হন অচলা।
প্রাতঃকালে মা লক্ষ্মীর নিম্নলিখিত নাম উচ্চারনে
দারিদ্রতা নিবারণ হয়ঃ-
লক্ষ্মীঃ শ্রীঃ কমলা বিদ্যা মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া সতী ।
পদ্মালয়া পদ্মহস্তা পদ্মাক্ষী পদ্মসুন্দরী ।।
ভূতানামীশ্বরী নিত্যা মাতা সত্যাগতা শুভা ।।
বিষ্ণুপত্নী মহাদেবী ক্ষীরোদতনয়া ক্ষমা ।।
অনন্তলোকলাভা চ ভূলীলা চ সুখপ্রদা ।
রুক্মিনী চ তথা সীতা মা বৈ বেদবতী শুভা ।
এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে – লক্ষ্মীদেবীর পূজাপাঠ ও ব্রতকথা
অন্তঃপর্ব – মা লক্ষ্মীর পাঁচালি কবিতা-২
কবি লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজি বসুধায়,
ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা শুক্ল পূর্ণিমায়।
ধান্য দূর্বা ফুলমালা ঘটে আম্রশাখা,
তদুপরি নববস্ত্র কচি ডাব রাখা।
নমো নম লক্ষ্মীমাতা প্রণমি তোমারে,
জনম জনম মাগো থাক মোর ঘরে।
তব কৃপা হলে সবে হয় ধনবান,
অর্থ যশ ধন রত্ন সব তব দান।
সুপ্রসন্না হও মাগো তুমি যার প্রতি,
সুখ শান্তি নিরবধি ধর্মে হয় মতি।
সুখ প্রদায়িনী তুমি তব করুণায়,
ধনহীন লভে ধন সদা সুখ পায়।
সন্ধ্যায় পাঁচালি পাঠ বিহিত বিধান,
কাব্য রচে কবিবর শ্রীমান লক্ষ্মণ।
