শরতের আগমনী-পূজোর কবিতা সংকলন একাদশ পর্ব- পূজোর কবিতা-১১

শরতের আগমনী-পূজোর কবিতা সংকলন
একাদশ পর্ব- পূজোর কবিতা-১১
কবি-লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন। পুজোর কেনাকাটা, প্ল্যানিং বহু ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে সবার। প্রতি বছর মহান উদ্যোগ এবং উদ্দীপনা সাথে উদযাপিত হয় দুর্গোৎসব। পুজোর কিছুদিন বাকি থাকলেও, দেবীপক্ষের সূচনার দিন অর্থাৎ ‘মহালয়া’ প্রত্যেকের দরজায় কড়া নাড়ছে। এইবছর, মহালয়া পড়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর। অতএব, ইতিমধ্যেই উৎসবের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে।
কোন বাহনে চড়ে দেবীর আগমন ও গমন হবে এবার? কীভাবে নির্ধারিত হয় দেবীর আসা যাওয়া?

প্রতি বছরই বাঙালি বিজয়ার পর থেকে পরের বছরের পুজোর (puja) জন্য অপেক্ষা করে। ‘আসছে বছর আবার হবে!’ এই কথা যেন সার্থক। আর মহালয়া হয়ে গেলে তো আর কাজ কর্মে একদমই মন বসে না। তবে আমরা যেমন রূপচর্চা থেকে শরীরচর্চা থেকে শপিং এসব নিয়ে মেতে থাকি, বাড়ির বড়রা গম্ভীর মুখে বসে পড়েন পাঁজি বা পঞ্জিকা নিয়ে। তাঁদের চিন্তার বিষয় হল, এবার দেবী কীসে আসছেন (coming) আর কীসে যাবেন (going)। অর্থাৎ দেবীর আগমন ও গমন কীসে। কিন্তু এটা নিয়ে এত ভাবনা চিন্তার কী আছে। চিন্তার বিষয় একটাই। দেবী কীসে আসছেন আর কীসে যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেবী যাওয়ার পর ফসল কেমন হবে, দেশে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটবে কিনা, এসব নাকি নির্ভর করে এই আসা যাওয়ার উপর! তা এবারে কীসে করে আসছেন মা দুর্গা (durga)? যাচ্ছেনই বা কীসে?

এবার পুজো শুরু হচ্ছে ৩ অক্টোবর থেকে। সেদিন হল পঞ্চমী। পঞ্জিকা বলছে এবার মা আসছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চেপে। দশমীর দিন তিনি ফিরেও যাচ্ছেন ঘোড়ায় চেপে। অর্থাৎ এই বছরে দেবীর আগমন ও গমন ঘোটকে। শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতরা বলছেন, ঘোড়ায় আগমন ও গমন মোটেই শুভ নয়। ঘোড়া ছটফটে প্রাণী। সে যখন যায়, সব কিছু ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দেবীর ঘোটকে আগমন ও গমনে প্রমাদ গুনছেন শাস্ত্রজ্ঞরা। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও খরা হতে পারে। দেখা দিতে পারে মহামারী ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। জানেন কি কীভাবে দেবীর বাহন প্রতি বছর বেছে নেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি কীসে চড়ে আসবেন ও যাবেন, সেটা জানার জন্য একটা মজার অঙ্ক আছে!

শাস্ত্র বলে
দেবীর মর্তে আগমন হয় সপ্তমীতে আর গমন হয় দশমীতে। এই দুটো দিন কোন বার পড়েছে সেই অনুযায়ী ঠিক হয় দেবী কীসে আসবেন আর কীসে যাবেন। উপরের এই শ্লোক দেখে বোঝা যাচ্ছে, সপ্তমী ও দশমী রবিবারে পড়লে দেবী গজ বা হাতিতে আসবেন ও যাবেন। যদি সপ্তমী শনিবার বা মঙ্গলবার হয় তা হলে ঘোটক বা ঘোড়ায় আসবেন। যেমনটা এই বারে হয়েছে। বৃহস্পতি বা শুক্রবার সপ্তমী হলে দেবী দোলায় আসবেন। আর বুধবার সপ্তমী বা দশমী পড়লে, তিনি নৌকায় আসবেন। দেবী কীসে করে এলে ঠিক কী হতে পারে, তার বর্ণনাও শাস্ত্রে আছে। যেমন বলা হচ্ছে, “গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা।” অর্থাৎ গজে এলে বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয় অর্থাৎ ফসল ভাল হয়। আবার “ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে” এটি বলা হয় ঘোটকের ক্ষেত্রে। নৌকার ক্ষেত্রে বলা হয় “শস্যবৃদ্ধিস্থুতাজলম”। অর্থাৎ নৌকায় এলে শস্য দ্বিগুণ হয় কিন্তু বন্যা দেখা দিতে পারে। দোলায় বা আগমন বা গমনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “দোলায়াং মরকং ভবেত।” অর্থাৎ দোলায় এলে বা গমন হলে মহামারী, ভুমিকম্প বা বড় রকমের যুদ্ধ হতে পারে।

তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে, শাস্ত্র যা বলে বলুক, আপামর বাঙালি কিন্তু ঘরের মেয়ের বাপের বাড়ি আসার জন্য অতি আগ্রহে দিন গোনে। আর এবারেও তার অন্যথা হচ্ছে না, হলফ করে বলতে পারি!

শরতের আগমনী-পূজোর কবিতা সংকলন
একাদশ পর্ব- পূজোর কবিতা-১১
কবি-লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

শরৎ এসেছে, পরাগ মেখেছে
শিউলি ফুটেছে বনে,
বেলি ও টগর শোভে মনোহর
শরতের আগমনে।

শারদ আকাশে পূবে রবি হাসে
সোনা রোদ আঙিনায়,
পূজা এলো কাছে মন্দির মাঝে
ঢাকীরা ঢাক বাজায়।

শারদ আকাশে সাদা মেঘ ভাসে
অজয়ের দুই কূলে,
অজয়ের চরে শালিকেরা উড়ে
শোভা দেয় কাশফুলে।

সবুজের খেতে প্রাণ উঠে মেতে
সুশীতল হাওয়া বয়,
সোনা রোদদুরে অজয়ের চরে
স্মৃতি হয়ে কথা কয়।

যেদিকে তাকাই দেখিবারে পাই
শরতের সোনা ছবি,
পূর্বদিকে দেখি লাল রং মাখি
ওঠে শরতের রবি।

0.00 avg. rating (0% score) - 0 votes