দখিনা বাতাস
-বলরাম সরকার
★★★★★★★★★★★
প্রতিদিন আসি আমি যেমনি-
আজও তেমনি এসেছি আমি
ঠিক সন্ধ্যাতে-
আড্ডা দিতে।
আসে নি বাকি বন্ধুরা সব,
তাই তো আমি আছি নীরব;
বসে একলা-
কাটছে বেলা।
এমনই এক নির্জন সময়ে
শীতল বায়ুর ছোঁয়া পেয়ে
হল এই ক্লান্ত –
দেহখানি শ্রান্ত !
পেয়ে শীতল বায়ুর পরশ
এ মনও হয়ে গেল বিবশ
‘প্রকৃতি অপরূপ
ঈশ্বরের স্বরূপ ।
আকাশ-বাতাস-গাছ-পালা
পাহাড় -সাগর -নদী -নালা
প্রাণ আছে যত
সব সুন্দর কত !
হে ঈশ্বর, প্রণমি তোমারে –
অপরূপ সৃষ্টি বিশ্ব মাঝারে।
প্রেম-শক্তি-ধৈর্য
হৃদয়ভরা ঐশ্বর্য
সকলি দাও তুমি আমারে –
দয়া, মায়া দাও এ অন্তরে !
দাও তুমি ভক্তি –
দাও তুমি মুক্তি !
আশা দাও মনে আলো দাও
দিশাহীন আমি, পথ দেখাও
কাছে রাখ মোরে
যেও নাকো সরে।’
ফের একখানি বাতাস এসে
বলে গেল কানে ফিসফিসে
‘আমি সেইতো আছি
তোমারই কাছাকাছি;
যাই নি কোনো দিন ও সরে
তোমার থেকে এতটুকু দূরে।
গড়েছি যে তোমায়-
মনের মাধুরী মিশায়।
তুমিই তোমার কর্ম-আচরণে
তোমার নিজ সুখের সন্ধানে
আপন মতিরই ভ্রমে-
যাচ্ছ দূরে ক্রমেক্রমে।
কে তুমি?এসেছ কোথা হতে?
ভেবে দেখ, নির্জনে নিভৃতে।
দেখ, অন্তরে আপন-
আছি আমি সর্বক্ষণ ।’
হঠাৎ ব্যাঘাত ঘটল ঘুমে-
বাকি সব বন্ধুর আগমনে।
চোখ মেলে চেয়ে
দেখি আছি শুয়ে-
আকাশের নিচে , বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ।
মিটিমিটি তারারা বলে আলোর ইশারায়,
“তোমার আমার মাঝে কোনো ভেদ নাই ;
ভগবানের হাতে গড়া তুমি আমি দুজনাই।”